শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Channel18

আন্তর্জাতিক

স্থগিত সুইজারল্যান্ডে আলোচনা; চাপের মুখে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি

স্থগিত সুইজারল্যান্ডে আলোচনা; চাপের মুখে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে সদ্য স্বাক্ষরিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এরই মধ্যে চাপের মুখে পড়েছে। সুইজারল্যান্ডে এ চুক্তি বাস্তবায়নসংক্রান্ত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। একই সময়ে লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষও শুরু হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ব্যক্তিগত আপত্তি থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ বন্ধে প্রাথমিক চুক্তিটি এগিয়ে নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন এমন সময় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি লঙ্ঘন করা হলে বা অতিরিক্ত দাবি তোলা হলে তেহরান কঠোর জবাব দেবে।

কায়রো ও ইসলামাবাদ জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক রোববার মিসরের আল-আলামেইন শহরে বৈঠকে বসবে। সেখানে ভবিষ্যতে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলগুলোর আজ (শুক্রবার, ১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন হ্রদের তীরে অবস্থিত বিলাসবহুল বুর্গেনস্টক রিসোর্টে বৈঠকে বসার কথা ছিলো। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও সেখানে অংশ নেয়ার কথা ছিলো।

কিন্তু সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এএফপিকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ড এখনো এ আলোচনা আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বুর্গেনস্টকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ চলমান রয়েছে। তবে নতুন কোনো তারিখ জানানো হয়নি।

এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন) রাতে হোয়াইট হাউস ঘোষণা দেয় যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সফর বাতিল করা হয়েছে। এক মুখপাত্র বলেন, ‘এ ধরনের আলোচনার লজিস্টিকস কখনোই সহজ বা পূর্বানুমানযোগ্য ছিলো না।’

তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু করার অপেক্ষায় রয়েছি।’

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এক্সে দেয়া পোস্টে বলেন, ‘চুক্তি লঙ্ঘন বা “অতিরিক্ত দাবি” উত্থাপন করা হলে তেহরান “চূড়ান্ত জবাব” দেবে।’

তিনি লেখেন, ‘যুদ্ধের সময় তারা একবার চপেটাঘাত খেয়েছে। যদি আবার সেই পথে হাঁটতে চায়, তাহলে আরও কঠোর চপেটাঘাত পাবে।’

চুক্তিটির উদ্দেশ্য ছিলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির আগে পাঁচ সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধে এ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিলো।

চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।এদিকে, চুক্তিটি লেবাননের সংঘাতও থামাবে বলে আশা করা হলেও শুক্রবার ইসরাইলের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন হামলার ঘোষণা দিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এসব হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইসরাইল জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটিই ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রথম প্রাণহানির ঘটনা।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির। তিনি বলেন, ‘পুরো লেবাননকে জ্বলে উঠতে হবে।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বৃহস্পতিবার জানান, ব্যক্তিগতভাবে ভিন্নমত পোষণ করলেও তিনি চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তবে আমি অনুমতি দিয়েছি, কারণ প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন।’

পিতা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব নেয়া মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প মরিয়া হয়ে সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করে এ চুক্তি আদায় করেছেন।’

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার জানায়, তারা ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নিয়েছে। তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো এখনো ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোকে নতুন গঠিত একটি সরকারি সংস্থার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করবে। আর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহায়তায় গঠিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের (৩০ হাজার কোটি ডলার) পুনর্গঠন তহবিল ছাড়ে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজ দলের কিছু মিত্রের সমালোচনার মুখেও পড়েছেন ট্রাম্প। ওই যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহৃত হয়।

তবে ট্রাম্প মনে করেন, আরও সামরিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানের কাছ থেকে অতিরিক্ত ছাড় আদায় করা সম্ভব হতো না।

তিনি অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘আমি যদি আরও কঠোর হতে চাই, তাহলে আরও দুই বা তিন সপ্তাহ বোমা হামলা চালাতে পারি। কিন্তু তাতে কী লাভ হতো? হরমুজ প্রণালি কখনোই খুলতো না।’—বাসস

আরও

রোমানিয়ায় এক বছরে কাজের ভিসা পেয়েছেন ৮৩১৯ বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক

রোমানিয়ায় এক বছরে কাজের ভিসা পেয়েছেন ৮৩১৯ বাংলাদেশি

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য কাজের ভিসা প্রদান অব্যাহত রেখেছে রোমানিয়া। দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,...

২০২৬-০৬-১৭ ২২:৫৫

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় নিহতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়েছে

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় নিহতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়েছে

গত বছরের অক্টোবর থেকে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরাইলি হামলায়...

২০২৬-০৬-১৭ ২২:৪০

যুদ্ধের আগুন নেভাতে পাকিস্তানের হার না মানা কূটনীতি

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধের আগুন নেভাতে পাকিস্তানের হার না মানা কূটনীতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার শেষ পর্যায়ে এমন কিছু মুহূর্ত এসেছিল, যখন মনে হচ্ছিল সব প্রচেষ্টা ভেস্তে যাবে।...

২০২৬-০৬-১৭ ২১:২২

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা চুক্তি ফাঁস, কী আছে সমঝোতায়!

আন্তর্জাতিক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা চুক্তি ফাঁস, কী আছে সমঝোতায়!

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তির ১৪ দফা খসড়া ফাঁস করেছে মা...

২০২৬-০৬-১৭ ১৮:৫৮

স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল পৃথিবীর ১০ পানির উৎসের ভয়াবহ সংকট

আন্তর্জাতিক

স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল পৃথিবীর ১০ পানির উৎসের ভয়াবহ সংকট

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী বাড়ছে তাপমাত্রা। এতে করে পরিবর্তন হচ্ছে সামগ্রিক পরিবেশ। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে শুক...

২০২৬-০৬-১৭ ১৬:০৩