বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকায় সফররত আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্মান বজায় রেখেই সংস্কারের কাজ পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন আনা হবে।
তিনি জানান, নতুন ঋণ কর্মসূচির ভিত্তি কী হবে তা নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর আগে যেসব নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলোর ওপর ভিত্তি করেই নতুন কর্মসূচির কাঠামো তৈরি হবে।
আইএমএফের প্রতিনিধি দল ১২ জুলাই বাংলাদেশ সফরে আসে। দলটি সরকারের নীতিগত লক্ষ্য, সংস্কার পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার বিষয়ে ধারণা নিতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে। সফরে বাজেট কাঠামো, রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, জ্বালানি খাত, ব্যাংকিং সংস্কার, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও বৈদেশিক অর্থায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সফর শেষে আইএমএফ জানায়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। তবে আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব ঘাটতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ও মূল্যস্ফীতির মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবে রাজস্ব সংস্কার ও ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করা গেলে মধ্যমেয়াদে অর্থনীতির উন্নতি সম্ভব।
এর আগে ২০২৩ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ আইএমএফের ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) যুক্ত হওয়ায় ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
বর্তমান সরকার আগের ঋণ কর্মসূচি পুনর্বিবেচনা করে নতুন কর্মসূচির জন্য আইএমএফের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ৪ থেকে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন প্রত্যাশা করছে।