তবে শুক্রবার থেকে আবহাওয়া অনুকূলে আসায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে। সকাল থেকেই হাওরের বিভিন্ন খলায় ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণিরা।
কৃষকদের ভাষ্য, টানা বৃষ্টিতে ধান শুকাতে দেরি হয় এবং শ্রমিক খরচও বেড়ে যায়। এখন রোদ ওঠায় দ্রুত ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে। অষ্টগ্রামের কৃষক মুসু মিয়া বলেন, কষ্ট করে কাটা ধান শুকাতে পারলে অন্তত পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা হবে। অন্যদিকে ইটনার কৃষক আইতুল মিয়া জানান, ঋণের চাপ সামলাতে ধান বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কয়েক সেন্টিমিটার কমেছে। একই সময়ে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আগামী দুই দিনে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাওরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। এ মৌসুমে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে এবং প্রায় ৬০ হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ধান কাটায় সহায়তা করতে বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো শ্রমিক ও শত শত হারভেস্টার মেশিন কাজ করছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পানি বৃদ্ধির আশঙ্কায় কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।