পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উৎসবের তৃতীয় দিন অর্থাৎ সোমবারই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। ওইদিন ২৩৭টি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ছিল বেপরোয়া গতি ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো। মোট ঘটনার প্রায় ৪২ শতাংশই অতিরিক্ত গতির কারণে এবং ২৭ শতাংশ মদ্যপ চালনার ফলে ঘটেছে।
যানবাহনের মধ্যে দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে ছিল মোটরসাইকেল, যা মোট ঘটনার প্রায় ৭১ শতাংশ। বিশেষ করে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি ছিল। চাম্ফোন ও চিয়াং রাই অঞ্চলে হতাহতের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাইল্যান্ডজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। থাই রয়্যাল পুলিশের উপমুখপাত্র মেজর জেনারেল সিরিওয়াত ডিপোর জানান, জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চলছে। রাজধানী ব্যাংককের জনপ্রিয় খাও সান রোডে মোতায়েন করা হয়েছে শত শত পুলিশ সদস্য।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো রোধে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়াটার গান ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং নির্দিষ্ট ওয়াটার-প্লে জোনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উৎসবের অংশ হিসেবে ১৪ এপ্রিল ‘ফ্যামিলি ডে’ উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে প্রতি বছর ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল জাঁকজমকপূর্ণভাবে সংক্র্যান নববর্ষ পালিত হয়। পানি খেলা এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হলেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি দেশটির জন্য দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে।
— সূত্র: ব্যাংকক পোস্ট