এ ঘটনায় এজাহারে অভিযুক্ত দুইজনের নাম উল্লেখ করে পেশকার হাবিবুর রহমান মামলা দায়ের করেন। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর রাতে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়।
মামলার আসামিরা হলেন— লক্ষ্মীপুর এলাকার কথিত সাংবাদিক পাভেল (৩০) এবং রাজপাড়া এলাকার মো. লালু (৩৫)। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছিল। পরে চার্জশিটে অজ্ঞাতদের নাম বাদ দিয়ে দুজনকে অভিযুক্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. হাবিবুর রহমান মহানগর যুগ্ম দায়রা জজ-২য় আদালতে পেশকার হিসেবে কর্মরত। ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে তাকে মেসেজ দিয়ে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও ও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ গেটের সামনে ডেকে নিয়ে তার কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়!
প্রাণনাশের ভয়ে তিনি সেদিন আসামিদের নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে গত ৫ সেপ্টেম্বর আদালত চত্বরে ফের তার কাছে টাকা দাবি করা হলে তিনি আরও ৩ হাজার টাকা দেন। সর্বশেষ ২৯ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে আদালত কক্ষের ভেতরেই আসামিরা তাকে পুনরায় টাকার জন্য চাপ দেয় এবং টাকা না দিলে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুমকি প্রদান করে!
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পেশকার রাজপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ দণ্ডবিধির ৩৮৫/৩৮৬/৫০৬ ধারায় মামলা (নং-২৪) রুজু করে।
রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানায়, সে সময় বাদীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছিলো। দীর্ঘদিন আসামী পলাতক ছিলেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। রাজপাড়া থানা পুলিশ আজ তাঁকে আটক করেন। আটক পাভেলকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।