পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরান বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়। টানা ৩৯ দিন চলা এই সংঘাতে অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা চরমে পৌঁছে।
পরে ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একক সিদ্ধান্তে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ান।
এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে বৈঠকে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গভীর মতবিরোধই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার মূল কারণ।
পারমাণবিক কর্মসূচি:
যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করুক। তবে তেহরান বলছে, এটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাবে না, কেবল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমিত করা যেতে পারে।
ইউরেনিয়াম মজুত:
ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
হরমুজ ও বন্দর ইস্যু:
ইরান জানিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না হলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, চূড়ান্ত চুক্তির আগে কোনো অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
জব্দকৃত অর্থ ফেরত:
একটি স্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে বিদেশে আটকে থাকা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ:
ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হওয়া ক্ষতির জন্য প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সব মিলিয়ে এই পাঁচটি মূল ইস্যুতে অনড় অবস্থানের কারণে এখনো যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তি আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। (সূত্র: আল জাজিরা)