মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে, ২৫ মার্চের গণহত্যার পর চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিরোধ গড়ে ওঠার সময় জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। ২৬ মার্চের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন, যা মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে দেশবাসীকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরবর্তীতে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে ১১ নম্বর সেক্টরের নেতৃত্বও দেন। সম্মুখযুদ্ধে তার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেন। সীমিত অস্ত্র ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি গেরিলা কৌশল ব্যবহার করে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদার করেন।
জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে শত্রুপক্ষের যোগাযোগব্যবস্থা ও সামরিক অবস্থানে আঘাত হানা হয়, যা মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক অগ্রগতিতে সহায়ক ছিল। তার সাহসিকতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়, যা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক সম্মান।
মুক্তিযুদ্ধ ছিল সম্মিলিত সংগ্রাম—যেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামরিক কৌশল এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ মিলেই বিজয় অর্জিত হয়। এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের অবদান ছিল সম্মুখযুদ্ধের মাঠে নেতৃত্ব প্রদান এবং প্রতিরোধ সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে ইতিহাসের নিরিখে এটি স্পষ্ট; বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের মধ্যে জিয়াউর রহমানের অবদান একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।