প্রিয়জনদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের। ২৮ রমজান দেশে ফেরার কথা ছিল কুমিল্লার নূরপুরের ওমান প্রবাসী জাকির হোসেনের, কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তার আর ফেরা হয়নি। বাড়িতে ফেরার আনন্দ এখন রূপ নিয়েছে গভীর আতঙ্কে। জাকিরের পরিবারের মতো এমন হাজারো পরিবার এখন ঈদের কেনাকাটার বদলে প্রিয়জনের নিরাপত্তার জন্য মোনাজাত করে সময় কাটাচ্ছেন।
কুমিল্লার বরুড়া ও লাকসাম উপজেলার অনেক প্রবাসী বর্তমানে সৌদি আরব ও কাতারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেক এলাকাতেই কাজের জায়গার পাশে বোমা হামলার ঘটনা ঘটায় প্রবাসীরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি অনেকের পক্ষেই এবার বাড়িতে টাকা পাঠানো সম্ভব হয়নি। প্রবাসীদের স্বজনরা জানিয়েছেন, মোবাইলের রিং বেজে উঠলেই তারা আঁতকে উঠছেন এই ভয়ে—না জানি বিদেশ থেকে কোনো দুঃসংবাদ আসে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রায় ২০ লাখ প্রবাসীর পরিবারে এবার ঈদের কোনো আমেজ নেই। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতি বছর এই সময়ে প্রবাসীরা বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠালেও এবার পরিস্থিতির কারণে অনেক ঘরে চুলো জ্বলাই দায় হয়ে পড়েছে।
একই চিত্র মুন্সিগঞ্জ ও নোয়াখালীর প্রতিটি গ্রামে। কাতার ও কুয়েত প্রবাসীদের মায়েরা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তাদের সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে। যুদ্ধের খবর শুনে অনেক পরিবার তাদের নাতি-নাতনিদের জন্য ঈদের নতুন কাপড় পর্যন্ত কেনেনি। প্রবাসীদের স্বজনদের ভাষ্যমতে, যেখানে সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তা নেই, সেখানে ঈদ আনন্দ তাদের কাছে অর্থহীন। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঠিকমতো কাজে যেতে না পারায় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ায় এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের কয়েক কোটি মানুষের ঈদ উদযাপনকে বিষাদে পরিণত করেছে।