বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশে শিগগিরই জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। ইতিমধ্যে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়ায় বিমান খাতেও প্রভাব পড়েছে।
মজুত কমে কয়েক দিনের সীমায়
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাধারণত ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রাখার সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
অকটেন: দৈনিক চাহিদা ১,১৯৩ টন; মজুত ৯,৮২৯ টন—আর মাত্র ৮ দিন চলবে
পেট্রোল: দৈনিক চাহিদা ১,৪৯৬ টন; মজুত ১৬,২২৫ টন—প্রায় ১১ দিনের সরবরাহ
ডিজেল: দৈনিক চাহিদা ১২,৭৭৭ টন; মজুত ১,৫২,৫৩৯ টন—প্রায় ১২ দিন
জেট ফুয়েল: প্রায় ২৪ দিনের মজুত
ফার্নেস অয়েল: প্রায় ১৮ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব
সংকটের প্রধান কারণ
জ্বালানি সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা—
আন্তর্জাতিক সংঘাত: বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৪৫ লাখ টন পরিশোধিত তেল ভারত ও চীন থেকে আমদানি করে। এই সরবরাহ চেইন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া: দেশে উৎপাদিত পেট্রোল ও অকটেনের বড় অংশ গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট থেকে আসে। কিন্তু গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ উৎসেও টান পড়েছে।
বাজার কারসাজি: আন্তর্জাতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট মোকাবিলায় এখন থেকেই জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা, জ্বালানিবিহীন বা কম জ্বালানি নির্ভর পরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের জ্বালানি খাত ‘ভয়াবহ সংকটের’ মুখে পড়তে পারে।