ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার পুলিশ বিভাগগুলোতে পাঠানো ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের উপকূলে থাকা কোিও অজ্ঞাত জাহাজ থেকে ড্রোন ব্যবহার করে আকস্মিক হামলার পরিকল্পনা করছিল ইরান। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালানোর কথা ছিল। তবে হামলার নির্দিষ্ট সময়, পদ্ধতি বা লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর বর্তমান সামরিক অভিযান শুরু করার ঠিক আগমুহূর্তে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। বর্তমানে ১২ দিন ধরে চলা এই সংঘাতের মধ্যে ইরান ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। তবে একজন জ্যেষ্ঠ আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ১২ দিনের টানা বোমাবর্ষণে ইরানের এ ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে মেক্সিকোর ড্রাগ কার্টেল বা মাদক চক্রগুলোর ড্রোন ব্যবহার নিয়েও উদ্বিগ্ন মার্কিন গোয়েন্দারা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের এক বুলেটিন অনুযায়ী, মেক্সিকোর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মার্কিন সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলার আশঙ্কার কথা জানা গিয়েছিল।
ডিএইচএস-এর সাবেক গোয়েন্দা প্রধান জন কোহেন এবিসি নিউজকে বলেন, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকায় ইরানের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। তাদের ড্রোন আছে এবং এখন হামলা চালানোর কারণও তৈরি হয়েছে। এফবিআই এই সতর্কতা জারি করে সঠিক কাজই করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসনের দফতর জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। লস অ্যাঞ্জেলেস শেরিফ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে উপাসনালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে টহল জোরদার করা হয়েছে।
যদিও এই ড্রোনবাহী জাহাজগুলো ঠিক কীভাবে বা কখন মার্কিন মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি পৌঁছাবে সে সম্পর্কে এফবিআই নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। তবে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে ইরান আগে থেকেই স্থল বা জলপথে ড্রোন ও সরঞ্জাম মোতায়েন করে রাখতে পারে বলে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ছিল গোয়েন্দাদের।