মৃত্যুর আগে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে শিশুটি বলেছিল, ‘আমাকে খারাপ জিনিস কইছে, আমি রাজি হইনি তাই সিফাত আমার গায়ে আগুন দিছে।’ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দেওয়া এই বক্তব্যের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মৃত শিশু রাইসা আক্তার (১০) বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকার দিনমজুর নজরুল হাওলাদারের মেয়ে।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একইদিন রাত ১০টার দিকে ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু রাইসার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সিফাত শিকদার দীর্ঘদিন ধরে রাইসাকে রাস্তাঘাটে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
রোববার দুপুরে রাইসাকে একা পেয়ে সিফাত তার পথরোধ করে। এ সময় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে রাইসার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার সময় পাশের বাড়ির বাসিন্দা তসলিম বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাইসাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে বিকেলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে সেখানে ভর্তি হওয়ার কিছু সময় পরই রোববার রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাইসা আক্তারের মৃত্যু হয়।