শনিবার (১১ এপ্রিল) শুরু হওয়া আলোচনাকে প্রথমে ‘ইতিবাচক’ বলা হলেও, শেষ পর্যন্ত হতাশাজনক ফলাফল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানান, টানা ২১ ঘণ্টার আলোচনায় কোনো চুক্তি হয়নি।
বিবিসির সাংবাদিক ক্যারি ডেভিস জানিয়েছেন, আলোচনার পরিবেশ ছিল স্পষ্টতই হতাশাজনক। দীর্ঘ আলোচনার পরও সমঝোতা না হওয়ায় মার্কিন প্রতিনিধিদল দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
বিশ্বের নজর ছিল এই বৈঠকের দিকে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।
সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়, যা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিলেও পরবর্তীতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যা থেকেই এই আলোচনার সূচনা হয়।
ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করে আলোচনায় অংশ নেওয়ায় সমঝোতায় পৌঁছানো শুরু থেকেই কঠিন ছিল। জো ইনউড তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে, যদিও এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক’ দাবির কারণেই আলোচনা ভেস্তে গেছে।
আলোচনা ভেঙে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তবে এখনই যুদ্ধ পুনরায় শুরু হচ্ছে—এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। পাকিস্তান, মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে, সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনার পথ খোলা রাখা জরুরি।
ইরানও ভবিষ্যতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই ব্যর্থ বৈঠকের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আবার কোন পথে এগোয়, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।