নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা রবিবার জানান, যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছিল। তবে সামগ্রিকভাবে যুদ্ধের অগ্রগতি শুরুর দিকে যেমনটা ভাবা হয়েছিল, সেই গতিতে হচ্ছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুদ্ধের লক্ষ্যমাত্রাগুলো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।
ইসরায়েলি সূত্রগুলোর মতে, যুদ্ধের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। ইসরায়েলের কিছু গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, যুদ্ধের সময় ইরানের সাধারণ মানুষ বড় সংখ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছু ঘটতে দেখা যাচ্ছে না, যা ইসরায়েলের জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে সূত্রগুলো দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিষয়ে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপগুলো আগামী দিনে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে বলে তারা আশা করছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানি আকাশসীমায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা। সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২ হাজার ২০০টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), সরকারি ভবন এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করে। এই অভিযানে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি, তারা এসব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এসব হামলায় হতাহতের পাশাপাশি কিছু বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজার এবং বিমান চলাচলেও।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড