চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও ইরান ও আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং দিন দিন বাড়ছে পাল্টাপাল্টি হামলা আর সেই সঙ্গে বাড়ছে বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা। রয়টার্স।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যদিয়ে শেষ হতে পারে। তবে জিতবে না কোনো পক্ষই। আর এক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠতে পারে চীন।
ইরান ও আমেরিকা-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ গড়িয়েছে চতুর্থ সপ্তাহে। এখন প্রশ্ন কে জিতবে নয়, বরং কীভাবে শেষ হবে এই যুদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধটি কোনো স্পষ্ট বিজয়ী ছাড়াই শেষ হতে পারে।
ক্রমাগত পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা। তবে ইতিহাস বলছে, এমন সংঘাত শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথেই গড়ায়- যখন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে থেমে যাওয়াই কম ক্ষতিকর মনে হয়।
ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার দায় অস্বীকার করে, যৌথ তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছে। এদিকে, বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কায় সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না উপসাগরীয় দেশগুলো।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো এর চূড়ান্ত লক্ষ্য। একইসঙ্গে আশঙ্কা রয়েছে, যুদ্ধ বাড়লে এর চাপ পড়বে পুরো অঞ্চলের ওপর।
সমাধান হিসেবে ধাপে ধাপে উত্তেজনা কমানোর কথা বলা হচ্ছে। প্রথমে বেসামরিক অবকাঠামো ও উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা বন্ধ, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় গুরুত্ব। এরপর ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি হামলা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শেষে সব পক্ষই নিজেদের সাফল্যের দাবি তুলবে। ওয়াশিংটন-তেল আবিব দাবি করতে পারে, তারা ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করেছে। অন্যদিকে, ইরান বলবে, তারা চাপের মুখেও টিকে থেকেছে এবং নিজেদের প্রতিরোধ শক্তি প্রমাণ করেছে।
এই জটিল পরিস্থিতিতে চীন সম্ভাব্য ও গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ দেশটির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সুসম্পর্ক রয়েছে।