প্রাথমিকভাবে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছিল, ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ‘MQ-9 রীপার’ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স বিশ্লেষকরা ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, এটি আসলে চীনের তৈরি ‘উইং লুং-২’ ড্রোন। পরবর্তীতে তেহরান টাইমসও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিশ্লেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি জানিয়েছেন, ইরানের নিজস্ব ড্রোনগুলোর মধ্যে উইং লুং মডেল নেই। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলও চীনা ড্রোন ব্যবহার করে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিমানবাহিনীতে এটি খুবই জনপ্রিয়। ফলে সন্দেহ করা হচ্ছে, ড্রোনটি সম্ভবত প্রতিবেশী কোনো দেশের হয়ে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে ইরান ও আরব দেশগুলোর সম্পর্ক কঠিন মোড় নিয়েছে। ইউএই এখন ইরানের ওপর হার্ডলাইন বা আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে, এমনকি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের জন্য লবিং করছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি সৌদি বিমানঘাঁটি আমেরিকাকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু ‘মর্যাদাহানিকর’ মন্তব্য সৌদি রাজপরিবারকে ক্ষুব্ধ করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি প্রমাণিত হয় ড্রোনটি সৌদি বা ইউএই-এর হয়, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ রাখায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল। এই ধরনের বিদেশি ড্রোনের অনুপ্রবেশ পরিস্থিতিকে এক ভয়ংকর সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আইর, তাসনিম নিউজ, তেহরান টাইমস