প্রতিবেদনে বলা হয়, শিপিং খাতের পশ্চিমা প্রবাসীরা বিশেষ করে গ্রিসের রাজধানী এথেন্স ও সাইপ্রাসকে সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন। কারণ এসব অঞ্চলে জাহাজ শিল্পের শক্তিশালী অবকাঠামো ও তুলনামূলক সুবিধাজনক করব্যবস্থা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, দুবাই থেকে ব্যবসা ও বসবাসের বিকল্প খোঁজার এই প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অনেক প্রবাসী মনে করছেন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে ইউরোপে সহজ যাতায়াত সুবিধা থাকা পশ্চিমা নাগরিকদের মধ্যে এই উদ্বেগ বেশি দেখা যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলমান সংকটের কারণে পারস্য উপসাগরে প্রায় দুই হাজার জাহাজ বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অবরোধের কারণে আটকে রয়েছে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা সংকুচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক শিপিং ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, ফলে খাতটিতে এক ধরনের অস্বাভাবিক চাহিদাও তৈরি হয়েছে।
তেল পরিবহন ভাড়ার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণকারী ব্রেকওয়েভ ট্যাংকার শিপিং ইটিএফের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে শিপিং রেট প্রায় ২৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্কিন তেল ও গ্যাস রপ্তানিও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামুদ্রিক ও লজিস্টিক খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দুবাইয়ের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্বের বৃহৎ ট্রান্সশিপমেন্ট কেন্দ্রগুলোর একটি জেবেল আলি বন্দরও এ সংকটের প্রভাব অনুভব করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
একজন জাহাজ মালিক মিডল ইস্ট আইকে বলেন, “সমস্যা শুধু ব্যবসার ধীরগতি নয়; বরং দুবাইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে পরিবারকে দ্রুত ইউরোপে পাঠানো সম্ভব হবে কি না, সেটিও এখন বড় উদ্বেগের বিষয়।”
এদিকে দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট খাতেও চাপ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক মাসে বহু রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে পারে এবং বাজারে উল্লেখযোগ্য সংকোচন দেখা দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা দুবাইয়ের জন্য বর্তমান সংকট একটি বড় ধাক্কা। তবে চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শহরটি এখনো বৈশ্বিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।