রোববার ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী একটি সমঝোতা স্মারক প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং তা স্বাক্ষরের অপেক্ষায় আছে। প্রস্তাবিত সমঝোতার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই নৌপথ কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তেহরান একটি ১৪ দফা কাঠামোভিত্তিক সমঝোতা চূড়ান্ত করার কাজ করছে। এটি প্রাথমিকভাবে ৩০ থেকে ৬০ দিনের একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি হিসেবে কার্যকর হতে পারে।
প্রস্তাবিত কাঠামোর মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে জানা গেছে। এছাড়া কিছু প্রতিবেদনে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, চলমান আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয়। একই সঙ্গে তারা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করার কোনো ইঙ্গিতও দেননি।
গত ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান আসেনি। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সরাসরি বৈঠকসহ একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলবাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধকে সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রিপাবলিকান পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ও রাজনীতিক এখন সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
সিনেটর Lindsey Graham সতর্ক করে বলেছেন, এমন কোনো চুক্তি যদি ইরানকে সামরিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার সুযোগ দেয়, তাহলে তা “ইসরায়েলের জন্য দুঃস্বপ্ন” হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ না হলে এবং ইরান যদি উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামোয় প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা ধরে রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই সমঝোতা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেই এ বিষয়ে মতপার্থক্য ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।