যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে এবং ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তা কমেছে। দেশের আইন অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে জাতীয় বাজেট পাস করতে হবে। তা না হলে তিন মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে নির্বাচন করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে আগাম নির্বাচন এড়াতে দ্রুত বাজেট পাস করাতে তৎপর হয়েছেন নেতানিয়াহু সরকার। কারণ, ভোট হলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরাজয়ের শঙ্কা রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহু ভেবেছিলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের পর আগাম নির্বাচনের সুযোগ মিলবে। মার্চের শুরুতে লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল। গাজা ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ইরান প্রসঙ্গে কিছুটা জনসমর্থন পাওয়া গেলেও ভোটের অঙ্কে তা পরিবর্তন ঘটায়নি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকেই নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে। টাইমস অব ইসরায়েলের জরিপ অনুযায়ী, লিকুদ পার্টি ১২০ আসনের মধ্যে ২৮ আসনই পাবে। জোটের মোট আসন হবে ৫১, যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়।
দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতি হচ্ছে, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। মিত্রদের সমর্থন ধরে রাখতে সরকারকে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিতে হচ্ছে অতি রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর জন্য। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সময় বাড়িয়ে সরকার টিকিয়ে রাখাই এখন নেতানিয়াহুর প্রধান কৌশল।