আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে 'অ্যাম্বুলেন্স সাইরেনের অবিরাম শব্দ' এবং 'নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে' বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তিই তেল আবিবের শিল্পাঞ্চলগুলোতে ইরানের 'ভারী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের গভীরতা' প্রকাশ করে। ইরানের দাবি, তাদের এই হামলায় ইসরায়েলের শিল্প ও সামরিক খাত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয় যে, ইরাকের এরবিলে অবস্থিত হারির বিমান ঘাঁটি এবং কুয়েতে মার্কিন সেনাদের অবস্থানস্থল আলী আল সালেম ও আরিফজান ঘাঁটিতে সফল অভিযান চালানো হয়েছে। আইআরজিসির মতে, এই ঘাঁটিগুলো ইরানের 'শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে'।
গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এই মুহূর্তে প্রস্তুত নন।
সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'ইরান একটি সমঝোতা করতে চায়, কিন্তু আমি তা করতে চাই না কারণ শর্তগুলো এখনও যথেষ্ট ভালো নয়।' তিনি আরও যোগ করেন যে, যেকোনো চুক্তি হতে হলে তা হতে হবে 'অত্যন্ত মজবুত'। তবে সেই চুক্তিতে কী কী শর্ত থাকতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, 'আমি এটি আপনাদের কাছে বলতে চাই না।'
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্পর্কে ট্রাম্প তার সন্দেহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা কেন জনসমক্ষে আসছেন না, সেই প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প বলেন, 'আমি জানি না তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না। এখন পর্যন্ত কেউ তাকে দেখাতে পারেনি।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি শুনছি তিনি বেঁচে নেই। আর যদি তিনি বেঁচে থাকেন, তবে তাঁর দেশের জন্য খুব বুদ্ধিমানের মতো একটি কাজ করা উচিত, আর তা হলো আত্মসমর্পণ করা।' তবে খামেনির মৃত্যুর খবরকে তিনি একটি 'গুজব' হিসেবেও বর্ণনা করেন।
ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে তিনি কাকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কোনো সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করেননি। তিনি শুধু বলেন, 'আমাদের কাছে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা বেঁচে আছেন এবং দেশটির ভবিষ্যতের জন্য তারা দারুণ নেতা হতে পারবেন।'
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে থাকায় রাশিয়ার ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্তের বিষয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'আমি বিশ্বের জন্য তেল নিশ্চিত করতে চাই। আমি তেল চাই।' তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ‘সংকট শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আবার বহাল করা হবে।’
চলমান এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের কাছ থেকে সম্ভাব্য সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প বেশ কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'আমাদের যার সাহায্য সবচেয়ে শেষে প্রয়োজন, তিনি হলেন ভলোদিমির জেলেনস্কি।'
উল্লেখ্য, রুশ ড্রোন প্রতিহত করার সামরিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। গত মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছিলেন যে, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে ইউক্রেন।