প্রতিবছরের মতো এবারও প্রধান আকর্ষণ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে চারুকলা অনুষদ এখন যেন এক সৃজনশীল কর্মশালায় পরিণত হয়েছে। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশাল কাঠামো, আঁকা হচ্ছে নকশা, এবং রঙের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে শেষ স্পর্শ।
এই বছরের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ’। ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিপাদ্য, প্রতীক ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আয়োজকদের মতে, এটি সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবনের বার্তা বহন করে।
শোভাযাত্রায় পাঁচটি প্রধান মোটিফ থাকবে— লাল ঝুঁটির মোরগ, দোতারা, ঘোড়া, পাখি ও শান্তির প্রতীক পায়রা। প্রতিটি প্রতীক আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। মোরগ নতুন সূচনার প্রতীক, পায়রা শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দেয়, দোতারা বাউল সংস্কৃতির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে, আর ঘোড়া ও পাখি জীবনের গতি, স্বাধীনতা ও ছন্দকে তুলে ধরে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চারুকলা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা বাঁশ-কাঠ কাটছেন, নকশা তৈরি করছেন, মুখোশ ও নানা শিল্পকর্ম বানাচ্ছেন। এসব শিল্পকর্ম বিক্রি করেও তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এই আয়োজন তাদের জন্য শুধু উৎসব নয়, এটি পরিচয় ও সংস্কৃতির অংশ।
এবারের আয়োজনের মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কমিটি।
উল্লেখ্য, পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা এখন শুধু উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। ইউনেসকো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিসরেও এর গুরুত্ব বেড়েছে। নববর্ষকে ঘিরে দেশজুড়ে আয়োজন করা হবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পরিবেশিত হবে পান্তা-ইলিশ ও পিঠাসহ ঐতিহ্যবাহী খাবার, এবং গ্রাম থেকে শহর সবখানেই ভাটিয়ালি ও বাউল সঙ্গীতের সুরে মুখর হবে পরিবেশ।