চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছর জেলার চারটি উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ২৪৭টি গবাদিপশু। এর মধ্যে ৪৪ হাজার ৪০৪টি গরু, ১ লাখ ৫৫ হাজার ২০০টি ছাগল, ২ হাজার ৫২৪টি ভেড়া এবং ১১৬টি মহিষ রয়েছে।
অন্যদিকে, এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৭১ হাজার পশু বেশি রয়েছে। ফলে জেলার চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও পশু সরবরাহের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক খামারি কয়েক মাস ধরে বাড়তি খরচ করে দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণ করেছেন। খড়, ভুসি, ঘাস ও প্রাকৃতিক খাবারের পাশাপাশি চিকিৎসা ও পরিচর্যায়ও ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাজারে ভালো দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
জীবননগর উপজেলার খামারি আব্দুল মালেক বলেন, একটা গরু বড় করতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয়। খাবার, ওষুধ সবকিছুর দাম বেড়েছে। আমরা চাই বাজারে যেন ন্যায্য দাম পাই। তা না হলে খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।
আলমডাঙ্গার আরেক খামারি সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশীয় খামারিরা অনেক কষ্ট করে পশু পালন করে। কিন্তু বাজারে দালাল ও বাইরের পশুর কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায় না। সরকার যদি বাজার মনিটরিং করে তাহলে আমরা উপকৃত হবো।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, জেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিদের প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, এবার খামারিরা ভালো দাম পাবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় পশুর হাটে কার্যকর তদারকি, অবৈধ পশু প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অনলাইন হাট ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করা গেলে জেলার খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। অন্যথায় উৎপাদন বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা থেকেই যাবে।