আলোচিত এই মামলার ১১ আসামিকে অভিযুক্ত করে গত ২ এপ্রিল চার্জ গঠন করা হয়েছিল। শেখ শরিফুলকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। তিনি শহরের ভেনাস প্রিন্টিং প্রেসের স্বত্ত্বাধিকারী।
অভিযোগে বলা হয়, যশোর শিক্ষা বোর্ডের ২৫টি হিসাব সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের যশোর বিআইএসই শাখায় পরিচালিত হয়। এর মধ্যে একটি হিসাবের স্বাক্ষরকারী বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিব। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ২০২১-২০২২ অর্থবছর পর্যন্ত ওই হিসাব থেকে ৩৮টি চেক জালিয়াতি করে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা দিয়ে ২৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭০৬ টাকার জায়গায় ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৭ টাকা তুলে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৬টি চেক গ্রহণ করেন মামলার আসামি আব্দুস সালাম। বাকি ২২টি চেক কয়েকজন কর্মচারীর সহায়তায় গ্রহণ করেন শেখ শরিফুল ইসলাম। তারা চেকগুলোতে পরিমাণ বাড়িয়ে লিখে টাকা তুলে নেন। এভাবে আসামিরা পারস্পারিক সহায়তায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মূল টাকার অতিরিক্ত ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩ টাকা আত্মসাৎ করেন।
এ ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষে সত্যতা পাওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল বাদী হয়ে ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতের চার্জশিট জমা দেন দুদকের তৎকালীণ উপপরিচালক আল আমিন। চার্জশিটে বোর্ডের তৎকালীণ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্লা আমির হোসেন ও সচিব প্রফেসর এএমএইচ আলী আর রেজাকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২ জুন মামলার ধার্য দিনে ১০ আসামির উপস্থিতিতে চার্জগঠন করা হয়।
এই মামলার আসামি শেখ শরিফুল ইসলাম পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার এড়াতে বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক এসএম নূরুল ইসলাম জামিন আবেদনের শুনানি শেষে নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৩৮টি চেক জালিয়াতির মামলায় ১১ জনের নামে চার্জশিট দাখিলের পর আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার মামলাটির পলাতক আসামি শেখ শরিফুল ইসলাম আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।