চেচনিয়ার শালি শহরে অবস্থিত এই মসজিদটি মূলত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নামে নামকরণ করা হয়েছিল, তবে বর্তমানে ‘প্রাইড অফ মুসলিমস’ নামে পরিচিত। এটি ককেশাস অঞ্চলের প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং বিশ্বজুড়ে মুসলিম ও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
২০১৯ সালে উদ্বোধিত মসজিদটি ককেশীয় ও উজবেক স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক অলংকরণের অপূর্ব সমন্বয়ে নির্মিত। উজবেক স্থপতি আবদুল করিম তুরদিয়েভের নকশায় গড়ে ওঠা এই স্থাপনা সাত বছর ধরে নির্মিত হয়েছে। শেষ পর্যায়ে ব্যবহার করা হয়েছে গ্রিসের থাসোস দ্বীপ থেকে আনা উজ্জ্বল সাদা মার্বেল, যা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ভবনকে গরমে শীতল রাখে।
উজবেকিস্তান ও তুরস্কের ৩৫ জন দক্ষ কারিগর দেয়াল ও ছাদে সোনার পাত এবং সূক্ষ্ম অলংকরণের কাজ করেছেন। মসজিদের অভ্যন্তর প্রায় ৩০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায়ের সুবিধা দেয়, আর প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত ৭০ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারে। প্রধান নামাজের কক্ষটি স্তম্ভবিহীন এবং প্রশস্ত, যা নির্বিঘ্নে জামাতে নামাজের সুযোগ দেয়।
মসজিদের ভেতরে রয়েছে পদ্মফুল আকৃতির সোনা ও ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি, প্রায় ৮ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে গালিচায় সাদা লিলি ফুলের নকশা, আরবি ক্যালিগ্রাফি ও জ্যামিতিক অলংকরণ। সুউচ্চ মিনারগুলো প্রায় ৬৩ মিটার এবং কেন্দ্রীয় গম্বুজ ৪৩ মিটার উচ্চতায় আকাশ ছুঁয়েছে।
চার হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত বাগান কমপ্লেক্সে রয়েছে প্রায় ২ হাজার গাছপালা, ৫০ প্রজাতির গোলাপ, দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা এবং মার্বেলের মণ্ডপ। সব মিলিয়ে, ‘প্রাইড অফ মুসলিমস’ শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি আধুনিক ইসলামিক স্থাপত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীক।