তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে এবং এর বোঝা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের দাম কমানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংক খাতে ‘লুটপাট’ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে জামায়াত নেতারা এসব কথা বলেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে ব্যর্থতা দিয়ে। গণভোটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি সরকার।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দুই বছরের মধ্যে দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও কয়েক মাসের মধ্যেই সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এতে দেশের প্রায় তিন কোটি গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় বন্ধ না করে তার বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের গণশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে এবং কারিগরি কমিটির সুপারিশের চেয়েও বেশি হারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর প্রভাব পরিবহন, উৎপাদন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারসহ সব খাতে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জনগণের নিরাপত্তাও আপনারা নিশ্চিত করতে পারছেন না। অথচ অর্থমন্ত্রী আইএমএফের শর্ত মানতে জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়েছেন। আপনারা সামনের পাঁচ বছরে হয়তো জনগণের রক্ত চুষে খেয়ে ফেলবেন। আপনারা দুর্নীতিবাজদের হাতে ব্যাংক তুলে দিতে গ্রাহকদের ওপর গুলি চালাতে পারেন, অথচ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন না। দেশের সবচেয়ে সফল ব্যাংক এস আলম লুটপাট করে খেয়েছে, এখন তার ঘাড়ে চড়ে আপনারা খেতে চান
সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, তিন মাসেই জনগণ আপনাদের মন্ত্রীদের ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে। আগামী পাঁচ বছরে কী হবে, তার জন্য প্রস্তুত থাকুন। আপনারা অতীত থেকে শিক্ষা নিন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম কমিয়ে জনগণের ওপর চাপ কমান, নয়তো জনগণের রুদ্ররূপ দেখতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকারের লোকজন বলে, আমরা কেন ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কথা বলি। আমরা ব্যাংকের গ্রাহক হিসেবে আমাদের অধিকার থেকে কথা বলি। দেশের নাগরিক হিসেবে ভালো-মন্দ নিয়ে কথা বলার অধিকার আমাদের আছে।
তিনি বলেন, অবিলম্বে তেল-গ্যাসের দাম যা বাড়িয়েছেন, তা কমান। এর সঙ্গে সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরুন। ইসলামী ব্যাংক দখলসহ লুটপাটের যে পরিকল্পনা করছেন, তা বন্ধ করুন। একদল লুটেরা পালাতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণকে আর সেই পথে যেতে বাধ্য করবেন না।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ দলীয় নেতারা।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।