ডিবি সূত্র জানায়, গত ২৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের টিএমএসএস “ছ”মিল অ্যান্ড উডেন ফার্নিচার সেকশনের উত্তর পাশে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। রংপুর থেকে বগুড়াগামী একটি বালুভর্তি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৯২৭৬) সন্দেহজনক মনে হলে থামানো হয়।
ট্রাকটির চালক মো. রবিউল ইসলাম (২৫), দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে ট্রাকটি তল্লাশি করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তল্লাশিতে দেখা যায়, ট্রাকের ওপরিভাগে স্বাভাবিকভাবে বালু রাখা হলেও নিচের স্তরে কৌশলে লুকানো রয়েছে তিনটি প্লাস্টিকের বস্তা। বস্তাগুলো খুলে ২৫ কেজি, ২৫ কেজি ও ৩০ কেজি—মোট ৮০ কেজি শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে ট্রাকসহ মাদক জব্দ করে চালককে আটক করা হয়।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ইকবাল বাহার জানান, “মাদক পাচারকারীরা দিন দিন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। পণ্যবাহী ট্রাক ব্যবহার করে মাদক পরিবহন এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একটি আন্তঃজেলা মাদক সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে পণ্য পরিবহনের আড়ালকে ব্যবহার করছে, যা প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর তল্লাশি ও তথ্যভিত্তিক গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি। মহাসড়ককে ব্যবহার করে এ ধরনের পাচার কার্যক্রম বাড়ছে, যা দমনে নিয়মিত চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতের বেলায় ভারী যানবাহনের ওপর নজরদারি জোরদার করার পরিকল্পনাও নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ দমন দীর্ঘমেয়াদে কঠিন হয়ে পড়বে।