স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দাবির পর লক্ষ্মীখালীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে এখন প্রকল্পটি কার্যত থমকে আছে। কাজ শুরু করে মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করে ব্রিজটি নির্মাণ শেষ করার পাশাপাশি কাজ ফেলে রাখার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, বাগেরহাট সদর ও রামপাল উপজেলার ১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম লক্ষ্মীখালী খালের ওপর থাকা কাঠের পোলটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এ পথ দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাঠের পোল ও সংযোগ সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়-কলেজে যাতায়াতেও নানা বিড়ম্বনা পোহাতে হয়।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পর লক্ষ্মীখালী খালের ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের শেষ দিকে নিশীথ বসু নামের এক ঠিকাদারকে কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এরপর ব্রিজটির পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা হলেও ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বরের পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর দৃশ্যমান কোনো কাজ করেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের অভিযোগ, কাজ বন্ধ থাকা অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করেছে। কাজ না করে বিল নেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে বর্তমান ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে ব্রিজ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী বলেন, “ব্রিজটি হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হতো। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার পর আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা আগের মতোই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। দ্রুত কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি নির্মাণ শেষ করা দরকার।”
দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। তাদের দাবি, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু না হলে বর্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়বে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদ বলেন, ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিলের জন্য প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে কাজ এগিয়ে নেয়নি। এ কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। কার্যাদেশ বাতিলের অনুমোদন পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুত নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীখালী ব্রিজ নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪ হাজার ২১ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ১২ এপ্রিল নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও ব্রিজের দৃশ্যমান উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পন্ন হয়নি। ফলে প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বন্ধ থাকা নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করবে এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ সম্পন্ন করবে। এতে দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।