৬৩ বছর বয়সী মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস প্রায় তিন মাস ধরে ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল কারাগারে আটক রয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে কারাকাসে তাদের বাসভবনে অভিযানে গিয়ে মার্কিন বাহিনী তাদের গ্রেফতার করে।
২০১৩ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর পতন ঘটে ওই অভিযানের পর। এরপর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ে।
মাদুরো নিজেকে ‘যুদ্ধবন্দি’ দাবি করে তার বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—নার্কো-সন্ত্রাসবাদে ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও বিধ্বংসী অস্ত্র রাখা এবং এসব অস্ত্র রাখার ষড়যন্ত্র।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় নির্ধারিত শুনানিতে তিনি মামলাটি খারিজের আবেদন জানাতে পারেন। একই সঙ্গে তার আইনজীবীদের পারিশ্রমিক কে বহন করবে, সে বিষয়েও আইনি জটিলতা রয়েছে।
মাদুরোর পক্ষে আইনজীবী ব্যারি পোলাকের খরচ বহন করতে চায় ভেনেজুয়েলা সরকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এ জন্য ওয়াশিংটনের অনুমতি প্রয়োজন, যা এখনো মেলেনি। পোলাক আদালতে বলেন, এই শর্ত মাদুরোর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং প্রক্রিয়াগত কারণে মামলাটি খারিজ করা উচিত।
বর্তমানে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছেন মাদুরো। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য পরিচিত এ কারাগারে তাকে একক কক্ষে রাখা হয়েছে। তার ইন্টারনেট বা সংবাদপত্র ব্যবহারের সুযোগ নেই; কেবল পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে সীমিত সময় ফোনে কথা বলতে পারেন।
ভেনেজুয়েলার একটি সূত্র জানায়, কারাবন্দি অবস্থায় মাদুরো ধর্মীয় বই পড়ছেন এবং সহবন্দিদের কেউ কেউ তাকে ‘প্রেসিডেন্ট’ বলে সম্বোধন করেন।
তার ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা জানিয়েছেন, মাদুরো মানসিকভাবে দৃঢ় আছেন এবং পরিবারকে উদ্বিগ্ন না হতে বলেছেন।
গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে বিমান ও নৌবাহিনীর সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের দাবি, ওই অভিযানে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বর্তমানে দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রড্রিগস। তিনি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবারের শুনানিকে ঘিরে নিউইয়র্কের আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মামলাটির বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইন, যিনি দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত।
সূত্র: এএফপি, বাসস